ছোট্ট একটি গল্প !!!

May 22nd, 2012 by G. M. Nazmul Hossain Leave a reply »

এই গল্পটি আমার লিখা নয়। ফেসবুক – এ হটাত করে চোখে পরেছিল।

আমি তখন একটি শপিং সেন্টারের একটি দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম । ৮-৯ বছরের একটি ছেলেকে দেখলাম একজন ক্যাশিয়ারের সাথে কথা বলতে ।

ক্যাশিয়ার বলছিল,”আমি দুখিত,কিন্তু বাবা তোমার পর্যাপ্ত পরিমান টাকা নেই এই পুতুলটি কেনার জন্য ।”তখন শিশুটি আমাকে দেখে বলল,”আঙ্কেল, আপনি একটু দেখেন তো আমার কাছে যথেষ্ট পরিমান টাকা আছে কিনা ।”

আমি তার টাকা গুনলাম এবং বললাম,”আসলেই তোমার কাছে যথেষ্ট টাকা নেই বাবু ।”ছেলেটি তখনও পুতুলটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ।

শেষ পর্যন্ত আমি তাকে বললাম যে সে পুতুলটি কাকে দিতে চাচ্ছে । সে বলল,”এই পুতুলটি আমার বোনের খুবই প্রিয় ছিল এবং সে এটি সবসময় কিনতে চাইত । আমি তার জন্মদিনে এটি দিতে চেয়েছিলাম । কিন্তু আমার বোন এখন স্রষ্টার কাছে চলে গিয়েছে । বাবা বলেছে, মাও নাকি খুব শিগ্রি চলে যাবে । তাই আমি আমার মার কাছে এই পুতুলটি দিতে চাই যেন মা আমার বোনের কাছে তা পৌছাতে পারে ।”

শিশুটির মুখে এরূপ কথা শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম ।

শিশুটি তার হাতের একটি ছবি দেখিয়ে বলল,”আমি সাথে আমার এই ছবিটাও দিয়ে দিব যেন তারা আমাকে ভুলে না যায় । আমি বাবাকে বলে এসেছি যেন আমি না আশা পর্যন্ত আম্মুকে যেন না ছাড়ে ।”

আমি আমার কাছ থেকে আরও কিছু টাকা যোগ করে তাকে পুতুলটি কিনে দিলাম । আসলে আমি নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম ।

শিশুটি আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে গেল ।

সেদিন আমি বাসায় গিয়ে ২ দিন আগের পেপার পড়ছিলাম । তখন একটি খবর আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল । একটি ট্রাক ড্রাইভার মাতাল হয়ে গাড়ি চালানোর সময় রাস্তার উপর গাড়ি উঠিয়ে দেয়, তৎক্ষণাৎ একজন বাচ্চা মেয়ে মারা যায় এবং তার মা গুরুতর আহত হয় । সাথে একটি ছবি ছিল আরেকটি ছেলের (যাকে আমি দেখেছিলাম) এবং তাতে লিখা ছিল যে এই শিশুটি কখনই তার বোনকে ফিরে পাবেনা । আমার মন ভারাক্রান্ত হয়ে গেল ।

পরের দিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে পেপার পড়ার সময় দেখলাম যে সেই মহিলা মারা গিয়েছেন । আমি শিশুটির বাসায় গিয়ে সান্ত্বনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম । তাদের বাসায় গিয়ে দেখলাম মহিলার লাশ কফিনে রয়েছে এবং সবাই একবার করে তা দেখে যাচ্ছে । আমি যখন কফিনের পাশে দাঁড়ালাম তখন আমার গা শিউরে উঠল । দেখলাম মহিলার হাতে ছেলেটির সেই ছবিটি এবং তার বোনের জন্য কেনা সেই পুতুলটি । প্রচণ্ড রকম খারাপ লাগা নিয়ে সেদিন অশ্রুসিক্ত নয়নে বাসায় ফিরেছিলাম ।

যে ভালোবাসা ছেলেটির মনে তার মা এবং বোনের জন্য ছিল তা অকল্পনীয় । কিন্তু শুধুমাত্র সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে একজন মাতাল ড্রাইভার তার সবকিছু কেড়ে নিল ।

দয়া করে কখনও মাতাল অবস্থায় অথবা অসতর্ক হয়ে গাড়ি চালাবেন না ।

 

সুত্রঃ Facebook

Advertisement

Leave a Reply

You must be logged in to post a comment.